Jyotishly · শিখুন · আপনার কুষ্ঠি তৈরি করুন · সাইন ইন

কুষ্ঠি মিলন ও গুণ মিলন: ৩৬ গুণ কীভাবে কাজ করে

সংক্ষিপ্ত উত্তর

কুষ্ঠি মিলন হলো বিয়ের আগে দুটি জন্মকুষ্ঠি মেলানো। এর সবচেয়ে পরিচিত অংশ, গুণ মিলন (অষ্টকূট), দুজনের চন্দ্র নক্ষত্র আর রাশি আটটি বিষয়ে তুলনা করে, যার মোট ৩৬ গুণ। প্রচলিত রীতিতে ১৮ বা তার বেশি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে জ্যোতিষীরা মঙ্গল দোষ আর দুজনের পুরো কুষ্ঠিও দেখেন।

আটটি কূট আর তাদের গুণ

গুণ মিলনের আটটি অংশ (কূট)। পরের দিকের কূটগুলোর গুরুত্ব বেশি:

  • বর্ণ — ১ গুণ: স্বভাব আর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি।
  • বশ্য — ২ গুণ: পারস্পরিক আকর্ষণ আর প্রভাব।
  • তারা — ৩ গুণ: মঙ্গল, দুই জন্মনক্ষত্রের দূরত্ব থেকে।
  • যোনি — ৪ গুণ: শারীরিক আর স্বাভাবিক মিল।
  • গ্রহমৈত্রী — ৫ গুণ: দুই চন্দ্র রাশির অধিপতির বন্ধুত্ব।
  • গণ — ৬ গুণ: প্রকৃতি (দেব, মনুষ্য বা রাক্ষস)।
  • ভকূট — ৭ গুণ: দুই চন্দ্র রাশির পারস্পরিক সম্পর্ক।
  • নাড়ী — ৮ গুণ: স্বাস্থ্য ও সন্তানের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরা হয়।

স্কোরের মানে

প্রচলিত মাপকাঠি: ১৮-র কম হলে পরামর্শ দেওয়া হয় না, ১৮ থেকে ২৪ গ্রহণযোগ্য, ২৫ থেকে ৩২ ভালো, আর ৩২-এর বেশি উত্তম। এগুলো রীতি, কোনো একটি শাস্ত্রের নিয়ম নয়, আর পরিবার ও অঞ্চলভেদে প্রথা আলাদা।

নাড়ী দোষ আর ভকূট দোষ

দুজনের নাড়ী এক হলে নাড়ী দোষ হয় — ৮-এ ০। দুই চন্দ্র রাশি পরস্পর থেকে ২-১২, ৫-৯ বা ৬-৮ হলে ভকূট দোষ হয় — ৭-এ ০। দুটোরই স্বীকৃত খণ্ডন আছে — যেমন চন্দ্র রাশির অধিপতি এক বা বন্ধু হলে — তাই কাগজে দোষ থাকা মানেই বাতিল নয়।

স্কোরের বাইরে

গুণ মিলন শুধু চন্দ্র দেখে। যত্নশীল মিলন লগ্ন, সপ্তম ভাব, শুক্র, নবাংশ কুষ্ঠি, দুজনের মঙ্গল দোষ আর সামনের বছরগুলোর দশাও দেখে। দক্ষিণ ভারতে সাধারণত আটটি কূটের বদলে দশটি পোরুত্তম দিয়ে মিলন হয়।

সাধারণ প্রশ্ন

বিয়ের জন্য কি ১৮ গুণ যথেষ্ট?
প্রচলিত রীতিতে ১৮-কে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। কম স্কোরের মিলনও পুরো কুষ্ঠি সমর্থন করলে টিকতে পারে, আর বেশি স্কোর মানেই মিল নিশ্চিত নয়।
শুধু নাম দিয়ে কি কুষ্ঠি মেলানো যায়?
নাম দিয়ে মিলন নামের প্রথম অক্ষর থেকে নক্ষত্র অনুমান করে। আসল জন্মের তথ্য দিয়ে মিলনের চেয়ে এটা অনেক কম নির্ভরযোগ্য।
গুণ মিলনের সর্বোচ্চ স্কোর কত?
৩৬-এ ৩৬। খুব বেশি স্কোর বিরল, আর জ্যোতিষীরা তবুও পুরো কুষ্ঠি দেখেন।

এটা নিজের কুষ্ঠিতে দেখুন

সূত্র ও আরও পড়ুন

জ্যোতিষ চিন্তার একটি প্রথাগত পদ্ধতি। বিভিন্ন ঘরানায় ব্যাখ্যা আলাদা হয়; এই গাইড প্রচলিত রীতি বর্ণনা করে।